News

ইভ্যালির চমকে চমকে উঠলো সারা বাংলাদেশ।

এখন আমরা বসবাস করছি আধুনিক যুগে, যেখানে সবকিছুতেই ছুঁয়া লাগছে আধুনিকতার। আর এই আধুনিকতার এক অন্যতম ছুঁয়া লেগেছে ই-কমার্স ওয়েবসাইটে। তেমনি নতুন গড়ে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যায় বাংলাদেশী ই-কমার্স সাইট ‘ইভ্যালি’, যার ফাঁদে পড়ে আজ অসহায় হয়ে কপালে হাত দিতে হয়েছে হাজারো বাঙালীদের।

 

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে আমাদের দেশ, সবকিছুতেই ডিজিটাল ছোঁয়া পেতে চাওয়া আমাদের মন। উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে পারাটাই যেন আমদের স্বপ্ন আর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরাও নিজেদের গড়ে তুলছি আধুনিকতার সাথে। মানুষের জীবন ব্যবস্থা অনেক সহজ করে তুলছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যার উপর আমরা দিন দিন নির্ভরশীলতা বাড়িয়েই চলেছি। আর এই আধুনিকতার এক অন্যতম উদাহরণ হলো “ই-কমার্স” সাইট।

‘ই-কমার্স’ সাইট হচ্ছে একটা অনলাইন ভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থা, যেখানে অনলাইনে কেনাবেচা হয়ে থাকে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বাজার, কাপড়, কাচামাল, পণ্য, যন্ত্রপাতি ইত্যাদী নিত্য প্রয়োজনী সকল ধরণের জিনিস পাওয়া যায় ই-কমার্স ওয়েবসাইটে। যার মাধ্যমে আমরা ঘরে বসেই সেসকল পণ্য অর্ডার করতে পারি এবং তা আমাদের বাসায় পৌছে দেয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের কষ্ট করে বাইরে দোকানে যেতে হয়না এমনকি পরিবহ্ন ব্যবস্থার ঝামেলাও বহন করতে হয় না, যেকোনো সময় যেকোনো জায়গা থেকে আমরা অর্ডার করতে পারি । আর এমন একটি ই-কমার্স সাইট হচ্ছে ‘ইভ্যালি’।

ইভ্যালি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই তারা নানা ধরণের অফার দিতে থাকে। যেখানে খুবই স্বল্প মূল্যে পাওয়া যেত পণ্য। অফার পেলে সেটা কে-ই বা ছাড়তে চায়। অফারের লোভে পড়ে মানুষ দিন দিন ইভ্যালি ব্যবহার বাড়াতে থাকে। তবে অন্যান্য ই-কমার্স সাইটে আমরা খুব দ্রুত ডেলিভারি পেতাম, কিন্তু এক্ষেত্রে উলটো । ইভ্যালিতে কিছু অর্ডার করলে তা ডেলিভারি পেতে অনেক সময় লাগতো, মাসের পর মাস চলে যেত। হ্যা, এক্ষেত্রে আবার তাদের আগে পেমেন্ট করতে হতো। মানুষ অফার দেখে লোভে পড়ে একাধিক পণ্য অর্ডার করে রাখতো হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে। তারপর কয়েকমাস পড়ে সে পণ্য তারা হাতে পেত। এতে অনেকেই খুশি ছিলো, ফলে ইভ্যালির জনপ্রিয়তাও দিন দিন বাড়তে থাকে।

তবে বর্তমানে ইভ্যালির গ্রাহক সংখ্যা অতি পরিমাণে বেড়ে যায় এবং কোটি কোটি টাকার ইনভেসমেন্ট করে রাখে মানুষ এখানে। তবে মাসের পড়ে মাস অপেক্ষা করার পড়েও তারা তাদের পণ্য পাচ্ছেনা এমনকি তাদের টাকাও দেরত দেয়া হচ্ছেনা। এমতাবস্থায় অনেকেই খুব সংকটে পড়ে যায় এবং দিন দিন অবিযোগ তুলতে থাকে ইভ্যালির উপর। অতি লোভে যে তাঁতি নষ্ট তার সরাসরি প্রমাণ মিলে যায় এই ঘটনার সাথে। দিন দিন অভিযোগের পাল্লা ভারি হলে ইভ্যালির মালিক ‘মোহাম্মদ রাসেল’ ও তার স্ত্রী কে তাদের বাসা হতে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব । গ্রেপ্তারে পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয়েছে তাদের।

লাখ লাখ টাকা ইনভেসমেন্ট করে এখন টাকা ফেরত পাবে কিনা সেই আশংকায় রয়েছে হাজারো মানুষ। তাদের দাবি হচ্ছে তাদের টাকা ফিরিয়ে দেয়া। তবে আদৌ কি তারা তাদের টাকা ফেরত পাবে ঠিকমত ? এই প্রশ্নই উঠে আসছে ।

অন্যদিকে আবার ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রীর নিঃশর্ত দাবি চেয়ে অন্দোলন করছেন অনেকে। তাদের দাবি হচ্ছে, তারা ইভ্যালি তে অনেক টাকা ইনভেস্ট করেছে আর সেই টাকা তারা ইভ্যালির কাছ থেকে নিয়ে নিবে, আর যদি মুক্তি দেয়া না হয় তাহলে সেই টাকা যেন সরকার ফিরিয় দেয় এই দাবি তুলে ধরছে তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button